নিজস্ব প্রতিবেদক :আলমডাঙ্গায় ১০০ বছরের পুরাতন একটি রাস্তা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ১৫০ টি পরিবার। গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের ঘটনাটি ঘটেছে। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের জমির মালিক মৃত রিয়াজ আলির ছেলে সিরাজ ও মৃত আয়ুব আলির ছেলে আজিল হোসেনের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য জনসাধারণের রাস্তা বন্ধ করার মতো নোংরা কাজে মেতে উঠেছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ।এলাকায় বাইরের মানুষ দাওয়াত দিয়ে গরু জবাই করে মানুষকে খাওয়ানোর পর এমন কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । এমনকি সেখানে ওসমানপুর ক্যাম্প ইনচার্জ এর উপস্থিতিতে এ কান্ড করার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ক্যাম্প ইনচার্জ রাস্তা বন্ধ করার কথা অস্বীকার করে দাওয়াত খাওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে ।
ফলে ওই পরিবারের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত, কৃষি পণ্য বাড়িতে আনা নেয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় পরিবারগুলো বর্তমান মানবেতর জীবন-যাপন করছে। যা মানাবাধিকার লঙ্ঘনেন মতো জঘন্যতম কাজ করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছে। এ বিষয়ে কেশবপুর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের মুনছুর মেম্বার বলেন,শতবছরের পুরাতন রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষকে অবরুদ্ধ করার মতো জঘন্যতম কাজ করেছে। এমনকি এই এলাকার মেম্বার হিসাবে আমাকেও তারা জানায়নি। ভুক্তভোগী রইচ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে, পরিবার সহ আমরা এখন কি করবো। পৃথিবীতে যার জমি নাই তার কি বেঁচে থাকার অধিকার নাই? সাজাহান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, গ্রামের একতৃতীয়াংশ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে কিন্তু হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করার পর ভেনচালক, নসিমন চালক, স্টারিং সহ বিভিন্ন পেশার সাথে সংযুক্ত মানুষ আজকে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গফুরুল্লাহ বলেন, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে প্রায় ১শ এর অধিক মানুষ নিয়ে জমির মাপযোগ করে, সেখানে পাশ্ববর্তী জমির মালিক হয়েও আমি ভয়ে যেতে পারেনি। তারা নিজেদের মত করে জমির সীমানা নির্ধারণ করে গেছে। এদিকে জমির মালিক সিরাজ ও আজিল এর সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন পূর্বে রাস্তার জন্য জমি দিয়েছিলাম এখন আর এককভাবে দিতে পারবো না। পাশ্ববর্তী জমির মালিকের জন্য আমাদের দীর্ঘদিন ধরে শরীকদের সাথে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে ছিল না,তাই আর তাদের জন্য রাস্তা দেব না। এদিকে গ্রামের সাধারণ মানুষ মনে করেন গ্রামের মোড়লদের কারনে ১৫০ পরিবারের এই পরিণতি।জমির মালিকেরা পূর্বেও রাস্তার জন্য জমি দিয়ে আসতেছিল এখনও দিতে রাজী কিন্তু কিছু ব্যক্তির কারনে আজ এই পরিস্থিতি। এ বিষয়ে হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সামনাসামনি না পেয়ে,তার ব্যাক্তি মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে একাধিকবার রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ অবহিত করে নাই,তবে বিষয়টি আমি এখন জানলাম আমি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।