চুয়াডাঙ্গার দামুডহুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের এক ভূমি কর্মকর্তার জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুস কেলেঙ্কারি ও নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে ঘুস গ্রহণের ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলাজুড়ে এক মিনিট১৫ সেকেন্ডের ও চার মিনিট ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ঘুসের টাকা গুনে কম হওয়ায় আরও এক হাজার টাকা দাবি করতে। এ সময় টাকা কম হওয়ায় ভুক্তভোগীকে অন্যপথ দেখানোর পরামর্শ দিতেও দেখা যায় তাকে। ভুক্তভোগী নাম না প্রকাশ করার শর্তে দৈনিক সকালের সময়'কে জানান, মাস দুয়েক আগে ২টি নামজারির জন্য ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম কাছে যাই। এ সময় তিনি আমার কাছে ৬ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। এক হাজার টাকা কম দেওয়ার চেষ্টা করি তাতে তিনি রাজি না হয়ে আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন। না হয় অন্যপথ দেখানোর পরামর্শ দেয় তিনি। পরে বাধ্য হয়ে আরও ৫০০ টাকা দিয়ে নামজারি করাতে হয়েছে। তিনি এ সময় আরও দাবি করেন, একটা নামজারিতে এ অফিস ১ হাজার ১৫০ টাকার বিপরীতে ১০-১৫ হাজার টাকা করেও নিচ্ছেন। এদের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ছে। ঘুসের ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কে বার কারা ঘুস দেওয়ার সময় ভিডিও করছে আমার জানা নেই। তবে ওই ভিডিও তাদের বলেও তিনি দাবি করেন। ঘুসের লেনদেনের ভিডিওর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কার্পাসডাঙ্গা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী। এসব বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভূমি অফিসে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর ঘুসের তথ্য মিলে গিয়েছে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা নাজির, তহসিলদার, অফিস সহকারী, পিয়ন সবাই ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত । নামজারি, মিস কেস, মিস আপিল, সার্ভে রিপোর্ট, এমপি কেস, খাস জমি বন্দবস্তি, ভিপি খাজনা দাখিলা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ঘুসের কারবার করেন অভিযোগ ও অনুসন্ধান বলছে, ওই সিন্ডিকেট বছরে কয়েক কোটি টাকা ঘুস আদায় করেন কার্পাসডাঙ্গা ভূমি অফিসের সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে। ঘুস আদায় তাদের কাছে ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্য তারা ঘুস আদায় করছে। এ দৃশ্য ভূমি অফিসে গেলেই চোখে পড়ে হরহামেশা। অনুসন্ধান বলছে, গত দুই বছরে ভূমি অফিসে গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার নামজারি করা হয়েছে। প্রতিটি নামজারিতে ডিসিআর খরচ সরকারি ১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অফিস খরচ বাবদ ১০ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন ভূমি অফিসের ওই সিন্ডিকেটরা। এর মধ্যে জাহিদুল ইসলাম বাবার সঙ্গে ঘুস নিয়ে অফিসেই বাকবিতণ্ডা ঘটে যা গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত গড়ায়। প্রকাশ্য ঘুস লেনদেনের ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমার নলেজে নেই ,তবে কনফার্ম হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন দামুডহুদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা