মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা ভিত্তি পাটবীজ খামারের কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ একর জমির পাট।
এতে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। ইতিপূ্র্বে ধান ক্ষেতে অতিমাত্রায় আগাছানাশক প্রয়োগের ফলে ধান ক্ষেতের ধানগাছগুলো পুড়ে নষ্ট হয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। একইভাবে এবারও পাট ক্ষেতে অতিমাত্রায় আগাছানাশক প্রয়োগের ফলে ৫ একর জমির পাট পুড়ে নষ্ট হয়েছে।জানা যায়, পাটের জমিতে নিড়ানি দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের একটা বরাদ্দ থাকলেও সেই টাকার কোনো হদিস নেই। শ্রমিকদের যাতে মজুরি দেওয়া না লাগে, সে জন্য শ্রমিকদের কাজে না লাগিয়ে আগাছা পরিষ্কারের জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন খামারের কর্মকর্তারা। যা প্রয়োগে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন কর্মকর্তারা। যার কারণে প্রায় ৫ একর জমির পাট ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর), সরেজমিনে চিৎলা ভিত্তি পাটবীজ খামারে গিয়ে জানা যায়, খামারের উত্তর ব্লকের ১০ একর জমিতে বোপণ করা পাট ক্ষেতের প্রায় ৫ একর জমিতে পাট খামারের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) রামিজ রানার নির্দেশে ৩ দিন পূর্বে আগাছানাশক প্রয়োগ করেন শ্রমিকরা। আগাছানাশক প্রয়োগের পর থেকে পুড়তে শুরু করে পাট। বিষয়টি গোপন করতে গত বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি করে একই জমিতে একসাথে তিনটা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেওয়া শুরু করেন।
তবে আগাছানাশক স্প্রে করা শ্রমিকরা জানান, যুগ্ম-পরিচালক স্যারের ব্যক্তিগত লোক বিষ সরবরাহ করেন। আর আমরা শুধু ফসলে স্প্রে করি। এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ডিএডি রামিজ রানা খামার থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে চিৎলা ভিত্তি পাটবীজ খামারে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা কতো এবং কতো একর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে, তার কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে খামারের যুগ্ম-পরিচালক মোর্শেদুল ইসলামসহ কোনো কর্মকর্তাকেও খামারে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী এলাকাবাসীর।