
সাগর আহমেদ জজ: নেত্রকোনা-৫ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য এবং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ১৫ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়েছেন। এছাড়াও, ব্যক্তি মালিকানা জমি, পুকুর দখল এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কমিশন আদায় করে প্রচুর টাকা সংগ্রহ করেছেন ২০০৯ সালে এমপি হওয়ার পর বেলাল দায়িত্ব নেন শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদে। ২০১১ সালে তিনি অধ্যক্ষ পদে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেন। ২০১০ সালে উপাধ্যক্ষ পদে ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেন। এছাড়া, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পদে ৫ লক্ষ করে মোট ১০ লক্ষ টাকা আদায় করেন। ২০১৮-১৯ সালে হিসাব রক্ষক পদে ৭ লক্ষ, ল্যাব সহকারী দুটি পদে ৬ লক্ষ করে মোট ১২ লক্ষ, এবং অফিস সহায়ক পিয়ন পদে ৫ লক্ষ করে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি বিপুল অংকের টাকা আদায় করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে ৮ লক্ষ, বাংলা বিভাগে ৮ লক্ষ এবং অর্থনীতি ও কৃষি বিভাগে সাত লক্ষ করে মোট ২১ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। ২০১৭ সালে কলেজটি সরকারি করণ করার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চিত্ত বিনোদন ভাতা হিসেবে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা প্রদান করে ইকুইটেসের মাধ্যমে ১১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হাতিয়েছেন। কলেজের ৪০ শতাংশ জমির পুকুর নিয়ে আইনি বিতর্কে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি সমঝোতা করে দেন। এতে কলেজের জন্য মাত্র ১১ শতাংশ জমি বরাদ্দ হয়, বাকিটা বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়। এই সময়ে গভর্নিং বডির তিন সদস্যের নামে ৯ শতাংশ জমি বন্টন করা হয়। শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মতিউর রহমান খানের পরিবারও এই দুর্নীতির শিকার হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কোনো সদস্যকে গত ১৭ বছর ধরে কলেজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, বরং তাদের হয়রানি করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে ৪০ কাটা জমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু তাদের ২৯ শতাংশ জমি বিগত ১৫ বছর ধরে বেলাল এমপি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। শ্যামগঞ্জ বাজার নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান মুকুলঅভিযোগ করেছেন যে, ২০১৮ সালে বেলাল তাকে নিজের গ্রামে নিয়ে গিয়ে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এমপির ক্যাডার মোমেন তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করেন বলে মুকুল অভিযোগ করেন। শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের বর্তমান প্রিন্সিপাল মোঃ হাবিবুর রহমান খন্দকার জানান, নিয়োগ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমপি বেলাল সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন।