সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সালিশ বৈঠাকের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় শাহজাদা নামের এক ব্যক্তির ঘর ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট দুই ভাই ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ শে আগষ্ট) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হাসাকোলা তালতলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শাহজাদা ওই গ্রামের মৃত শাহজাহান মোল্লার ছেলে, অভিযুক্তরা তার ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী সাজেদুল ও দুবাই প্রবাসী শাহ আলম।
খবর পেয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আদিব সহ বেশ কয়েকজন ছাত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
জানা যায়, মৃত শাহজাহান মোল্লার ৪ ছেলে শাহজাদা, শাহ আলম, সাজেদুল ও সহিদুল ৯ শতাংশের পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতেন। পরিবারের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাচ্চু, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রামের প্রধানদের উপস্থিতিতে সাজেদুল ও সহিদুলের অর্থায়নে বাড়ির পাশে অবস্থিত ১৫ শতাংশ খাল ভরাট করে বড়ভাই শাহাজাদা ও ছোটভাই সহিদুলের বাড়ি করার সর্ব সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সেই সাথে তাদের ঘর তৈরির জন্য ১ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকার দেয়ার কথা বলা হয়।
ভুক্তভোগী শাহাজাদা অভিযোগ করে বলেন, আমার ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তৈরির সময় সবাই এসে বাধা দেয়। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রধানগণ আমার বাড়িতে এসে ঘর সরিয়ে ভরাটকৃত জায়গায় যেতে বলেন। তখন আমি তাদের রায় কর্যকর করার কথা বললে তারা আমার কথা না শুনে ঘর ভেঙ্গে দেয়। এসময় আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে মারধর করে তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ভাই সাজেদুল বলেন, বড়ভাই শাহজাদা মাদক বিক্রির সাথে জড়িত থাকার কারণে প্রতিনিয়ত মাদকসেবীরা বাড়িতে যাতায়াত করতো তাই সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা আলাদা থাকার প্রয়োজন অনুভব করি। শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দুই প্রবাসী ভাই প্রায় ১০ লক্ষ্য টাকা খরচ করে বাড়ি লাগোয়া গভীর খালে বালি ফেলে ভরাট করে ফেলি। প্রথম দফায় বালি ভরাটের পর শাহাজাদা তার ঘরটি স্থানান্তর করে ভরাটকৃত জায়গায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় ৩মাস পূর্বে বর্ষার আগমনের সময় প্রধানদের অনুমতি ছাড়া অস্থায়ীভাবে শাহজাহান ঘরটি আবার পূর্বের জায়গায় তৈরি করেন। এর মধ্যে বালি ভরাট সম্পন্ন হলে শাহাজাদা ঘর সরাতে অস্বিকৃতি জানায়। বারংবার প্রধানরা তাকে বলার পরেও তারা ঘর না সরানোয় তারাই ঘরটির সরিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ভাইদের মাঝে জায়গা সংক্রান্ত ঝামেলা চলছে। শাহাজাদা সম্মত হওয়ার পর তার দুই ভাই টাকা খরচ করে খাল ভরাট করে দেয়। এই নিয়ে কয়েক দফা শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, শাহাজাদা তখন বলে ঘর সরাবো পরে অন্য কথা বলে। ঘর ভাঙার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।