
২০ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা জামায়াতের উপজেলার শাখার আয়োজনে শহরের হ্যামলেট ক্যাফে-তে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর দারুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাডভোকেট আমীর রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মামুন রেজা,এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের আমীর মাহের আলী, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, তরিকুল ইসলাম, উপজেলা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রবিউল ইসলাম, পৌর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আক্তারুজ্জামান।
জিএ শাখার আমীর আব্বাস উদ্দিনের উপস্থাপনায় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন করেন রহমান মুকুল ও ফিরোজ ইফতেখার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান, সাধারন সম্পাদক নাজমুল হক শাওন, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন, সোহেল হুদা, সঞ্জু আহমেদ, আল আমীন হোসেন, রাশেদুজ্জামান রাজীব, সোহেল তানজিম হিরো, আব্দুল্লাহ হক, মীর রোকনুজ্জামান, কাজী সোহাগ, ইউনুস মন্ডল, শাহারিয়ার শরিফ, সাইদুল ইসলাম, শেখ মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সাংবাদিকদের মতবিনিময় সময় প্রধান অতিথি জেলা জামাতের আমির তার বক্তব্যই বলেন ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসনের পতনের মাধ্যমে এ দেশের বিপ্লবা ছাত্র সমাজ দেশের নির্যাতিত জনগন, মুক্তিকামি সুশিল সমাজ, বঞ্চিত পেশাজীবী মানুষ, আরো একবার স্বাধিনতার স্বাদ গ্রহন করেছে। আপনাদের সাথে আজকের এই মত বিনিময় কালে সেই সব অকুতভয় ছাত্র সমাজকে জানায় কৃতজ্ঞচীত্তে সালাম। যারা রক্ত ঝরিয়ে দেশেরতরে জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে শাহাদতের মর্যদা কামনা করছি। পাশে থেকে যারা এই আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছে তাদের জন্য কল্যান কামনা করছি। * জাতির বিবেক সাংবাদিক বন্ধুগন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই ব্যানার নিয়ে আপনাদের সাথে মত বিনিময় করার সযোগ থেকে আমরা ছিলাম বঞ্চিত আজকে এই শুভ ক্ষনটি তাই ধরে রাখতে চাই তুলে রাখতে চাই ইতিহাসের পাতায়। দেশে গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসন শুরু হয়েছিল আজ থেকে ১৬ বছর পূর্বে। দেশের সকল সেক্টরে ছিল দলীয় করনের দৃশ্যমান চিত্র। তথাকথিত বৃদ্ধিজীবী, সুশিল সমাজ, সাংবাদিক, লেখক কেউ এর বাহিরে ছিল না। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করার সাহস যারা দেখিয়েছে তাদের কে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে একপেশে করেছে কখনও বা মামলা, হামলা, এমনকি জেলে পুরে রাখতেও শেখ হাসিনার সরকার পিছপা হয়নি। ডিবি অফিসের ভয়ংকার চিত্র, আয়নাঘরের মত লোমহর্ষক ঘটনা, সাদা পোষাক ব্যাহনার দূরদান্ত দাপট। সরকারী দলের ক্যাডার ব্যাহনীর অসহানয় আচরণ, আফস গুলোতে সুদ-ঘুষ বানিজ্য ছিল এদেশের প্রতিদিনের নৈমিত্তিক চিত্র। সাধারণ মানুষ এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারিনি সত্য কিন্তু তাদের দীর্ঘশ্বাস ৫ ই আগস্ট নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভিষন- ‘মানুষের কল্যান সাধন করা, দেশ পরিচালনায় সৎ যোগ্য মানুষ তৈরী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এই ভিষন কে দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য জামায়াতের সকল স্তরের কর্মী বাহিনী সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চলার পথে যেখানেই যে দোষ ক্রাট আপনারা দেখবেন তা নিঃসংকোচে গঠন মূলক সমালোচনা করবেন। এদেশে যেন কোনো ব্যাক্তিকে কোন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, কিংবা ধর্মীয় কোন ব্যাক্তিকে বা গোষ্ঠীকে কেউ কোন ট্যাগ লাগিয়ে যেনো কেউ কাউকে হেনস্তা করতে না পারে তার দিকে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন।
তিনি আরো বলেন এদেশে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে সেদিকে আমাদের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দূর্নীতি করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায় সেজন্য আপনাদের কে তথ্য দিয়ে প্রশাসন কে সাহায্য করতে হবে। ভাল কে ভালবলার সৎ সাহস আপনাদের কাছে আমরা কামনা করি।
সমাজের হাতবাচক খবর গুলোকে আপনারা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করবেন, যেন সমাজের মানুষ ইতিবাচক কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। • অলম সৈনিক সাংবাদিক বন্ধুগন * জামায়াতে ইসলামীর সকল নেতা কর্মী মাদকমুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত, দখলদার মুক্ত, টেনডারবাজ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত, গ্রুপিং মুক্ত, জামায়াতের মূল শক্তি আল্লাহর উপর ভরসা, ধৈর্য্য এবং দলীয় শৃংখলা তার পরেও যারা আমাদের গালিদেয়, মারে, জেলে পুরে হত্যা করতে চাই, শত্রুতা করতে চাই, তাদের রাজনৈতিক শক্তি কি? তাদের রাজনেতিক উদ্দেশ্য কি? তারা কি দেশ এবং জাতীর জন্য কিছু করতে চাই না নিজের ব্যাক্তগত স্বাথের জন্য রাজন্যাত করে? এই প্রশ্ন আপনাদের মাধ্যমে জাতার কাছে রাখলাম। সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধু গন। আমরা বিশ্বাস করি দুনিয়ার জীবনের সমান্তী আখেরাতের জীবনের সূচনা, দুনিয়ার প্রত্যেকটি কাজের হিসাব আখেরাতে দিতে হবে। দুনিয়ার জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী আখেরাতের জীবন স্থায়ী। দুনিয়ার জীবনে সুখ দুঃখ উভয়ই আসে আর আখেরাতে শুধুই সুখ অথবা শুধুই দুঃখ। আমরা জামায়াত কর্মীরা আখেরাতের জীবন কে প্রাধান্য দেয় বলেই দুনিয়ার এই তথাকথিত প্রতিযোগীতায় গিয়ে অর্থশালী হতে আগ্রহী হয় না।
এ সময় উল্লেখ করে আরো বলেন
শেখ হাসিনা সরকার এক “দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সাংবাদিক দের স্বাধিনতা হরণ করেছিল। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এক দলীয় ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্য ডিজিটাল আইনে শত শতমামলা করলেও, সাগর রুণীর হত্যা সহ অসংখ্য সাংবাদিক’দের হত্যার বিচার হয়নি। বরং দিনের পর দিন উক্ত হত্যা মামলার বিচার বিলম্বিত করে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা চাই আইন বর্হিভূত হত্যার বিচার হোক। সকল দূর্নীতির বিচার হোক। সকলেই আইনের শাসনের আওতায় আসুক। সরকারের সকল কর্মচারী, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক সহ সরকারী সকল দপ্তর রাজনীতি মুক্ত হোক।










