
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আরিফুল ইসলাম
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থানীয় রাজনীতির ছায়ায় গড়ে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সহিংসতার একটি জঘন্য ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুরসহ আটজনের বিরুদ্ধে জমি ও বাগান দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) কালীপুর ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক আবদুল হামিদ বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলাটির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তকসিমুল গণি ইমন, অ্যাডভোকেট লুৎফুল হায়দার এবং অ্যাডভোকেট আবু নাছের।
এই মামলার বাদী, কালীপুর ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হকের অভিযোগে উঠে এসেছে, কীভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও তাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতির একটি অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা এখন তদন্তের আওতায় এসেছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাঁশখালী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর নির্দেশে এবং তার মদদে কালীপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং জমি ও বাগান দখল করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই আসামিরা নুরুল হকের লিচু বাগান জোরপূর্বক দখল করেন। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে আসামিরা নুরুল হকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ততার সুযোগ নিয়ে আসামিরা নুরুল হক এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপর ক্রমাগতভাবে নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নুরুল হকের পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করার পাশাপাশি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নিজ বাড়িতে বসবাস করতেও বাধা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জুন উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্যে আবদুল গফুর কার্যালয় নির্মাণে সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চাঁদা নেন বলে অভিযোগ করেন। পরদিন কয়েকটি গণমাধ্যমে গফুরের অভিযোগসংবলিত বক্তব্যটি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিক ছাড়াও একই ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুরের ‘হাড্ডি’ ভেঙে ফেলবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। মুঠোফোনে আবদুল গফুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে। মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি পৌর সদরে নির্মাণ করা হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই কার্যালয় নির্মাণ শুরু হয়। এক বছর আগে কার্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়। কার্যালয় করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা নেন বলে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে ২০১৪ সাল থেকে টানা দুবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। অবশ্য ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশন মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর আগে বাঁশখালী থানা কার্যালয়ে হাজির হয়ে মোস্তাফিজুর ওসি তোফায়েল আহমদের দিকে তেড়ে যান। এ কারণে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে মুজিবুর রহমান ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এ ছাড়া প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে মিছিল করেও সমালোচিত হন তিনি।










