ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৪ ইং অমুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে- শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম
আজ ১৫ আগস্ট সকালে শাহবাগ মুক্তমঞ্চ ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানীর নেতৃত্বে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত হয়ে ছাত্র-জনতার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারফ হোসেন, মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমদ, অধ্যক্ষ মাওলানা ডক্টর মহিউদ্দিন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসান, মাওলানা নুরুজ্জামান নোমানী, মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী, মুফতি শফিকুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম আযম, ডঃ মাওলানা কামরুল ইসলাম শাহীন, মুফতি তাজুল ইসলাম, মুফতি রবিউল ইসলাম, মুফতি বাকিবিল্লাহ প্রমুখ।
ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার সকল চক্রান্ত রুখে দেয়ার জন্য ছাত্র-জনতার পাশাপাশি আলেম-ওলামাগন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বের মাঝে সর্বাধিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও গুজবমুক্ত করতে হবে। সংখ্যালঘু অমুসলিমদের পাহারা দেওয়া, তাদের জানমাল ইজ্জত আব্রু হেফাজত রাখা, বিশেষ করে তাদের মন্দির, উপাসনালয় ইত্যাদি পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। যে সমস্ত দুষ্কৃতিকারীরা মন্দিরে হামলার উদ্যোগ নেবে তাদেরকে সেখানেই থামিয়ে দিতে হবে এবং ধরে ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাতে তুলে দিতে হবে। কোরআন হাদিসের নির্দেশ এবং ইসলামের বিধান হল অমুসলিমদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া, পূর্ণ নিরাপত্ত্বা সহকারে পূজা অর্চনা করতে দেওয়া এবং তাদের মন্দির ইত্যাদি হেফাজত রাখা আমাদের ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব।
অন্যান্য শীর্ষ উলামায়ে কেরাম আরো বলেন, পূর্বের ফ্যাসিবাদী সরকার এদেশের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোন উদ্যোগ নেইনি এবং জনগণের মনের চাহিদা মোতাবেক কাজ করেনি তাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের কাছে আমাদের সুপারিশ যেন জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা পূরণে সার্বিক কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং জনগণকে পূরণের বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া সময়ের দাবী। সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকার এদেশের সাধারণ জনগণের উপরে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন জুলুম চালিয়েছে বিশেষ করে আলেম-ওলামাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার আলেমদের এবং ইসলামী মূল্যবোধের যথাযথ মর্যাদা দিবে বলে আমরা আশা করি।
তাঁরা আরো বলেন, ছাত্র গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাশ্রুত পূর্বের সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের ফেরত যাওয়ার আড়ালে দেশকে ইসলাম মুক্ত করণ, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম মুক্ত করে নাস্তিক্যবাদী জগাখিচুড়ি শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের পাঁয়তারা সহ নানামুখী অনৈসলামিক ও অনৈতিক কুরুচিপূর্ণ কিছু বিধান ও আইন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল, আমরা আশা করব বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা অনুযায়ী কোন ধরনের অনৈতিক ও ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড অনুমোদন দিবেন না।