
১৩ আগস্ট ২০২৪ ইং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহতদের আর্থিক অনুদান প্রদানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ
ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা আবারো ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করতে চায়
-নূরুল ইসলাম বুলবুল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যত্থান নস্যাৎ করার জন্য ৬ আগষ্ট থেকেই দেশে বহুমুখি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যেখানে শহীদের মায়ের কান্না এখনো থামেনি, আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্তরা আজ দিশেহারা, সেখানে আমরা দেখছি, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা আবারো একটি ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করতে চায়। চক্রান্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আহতদের দেখতে ও তাদেরকে নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদানকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় প্রেসব্রিফ্রিংয়ে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, ড. আবদুল মান্নান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, ড. মোবারক হোসেন, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, ডা. আতিয়ার রহমান, শেখ শরিফ উদ্দিন প্রমুখ।
নূরুল ইসলাম বুলবুল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন, তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন, পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার জন্য শান্তনা দেন। তিনি আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে ব্রিফ্রিং এ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গত ৫ আগষ্ট ঐতিহাসিক গণঅভুত্থান হয়েছে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত গুলী চালিয়েছে, হাজারো ছাত্রজনতা জীবন দিয়েছে, হাজারো মানুষ আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, চোখ অন্ধ হয়ে গেছে, নিপিড়ীত হয়েছে অনেকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রথম দিন থেকেই হতাহতদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আমাদের চিকিৎবৃন্দ ও স্বেচ্ছসেবকরা তাদের পাশে থেকেছে।
তিনি বলেন, আমীরে জামায়াত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন এবং সবার চিকিৎসার ব্যাপারে খবর নিয়েছেন। তিনি ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনে আহত সকল রুগীকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদানের আশ^াস দেন। আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার আলোকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আহত হয়ে ১৮৪ জন রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা তাদের সবাইকে আজ আর্থিক অনুদান পৌঁছে দিয়েছি। আমরা হাসপাতালের পরিচালকের সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা তাদের পাশে আছি।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরেরা আবারো একটি ঘোলাটে পরিবেশ তেরি করতে চায়। আজকে ছাত্রজনতাকে আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণঅভ্যত্থানকে সুফলকে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি বসবাস যোগ্য বাংলাদেশ, একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ, সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা, সহমর্মিতার ভিত্তিতে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর জন্য একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। ছাত্র সমাজকে রাজধানীর রাজপথে থেকেই ছাত্র-জনতার বিজয়কে সুনিশ্চিত চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করতে হবে। তিনি চক্রান্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ এছাড়াও রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপতালে চিকিৎসাধীনদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
(মুহাম্মাদ সাইফ)
প্রচার সহকারী,
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।










