দীর্ঘ ১৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের সমাবেশ
Spread the love

১০ আগস্ট’২০২৪ তারিখে: শনিবার চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রাণ কেন্দ্রে শহীদ হাসান চত্বরে বিকাল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েব আমীর মাওলানা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এর সঞ্চলনায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর শুকরানা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এ্যাড. মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা আমীর মোঃ আনোয়ারুল হক মালিক।

বিপ্লবী ছাত্র-জনতার রক্ত স্রোত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসকের পতন ও গণতন্ত্রের দ্বার উম্মোচন হওয়ায় শুকরানা সমাবেশে বক্তারা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রক্যাশে বিনা পুলিশি বাধায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় আজকে এই সমাবেশ করতে পারছে এর জন্য মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। সমাবেশকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ হাসান চত্বর অল্প সময়ের জন্য লোকেলোকারণ্য হয়ে ওঠে। পুরাতন হাসপাতাল রোডেও বিশাল মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। কানায় কানায় পূর্ণ হয় বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বর মুক্ত মঞ্চ ও তার আশেপাশের এলাকার সকল রোড।

অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মোঃ কামাল উদ্দিন, মোঃ আব্দুর রউফ, অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মোঃ মহসিন এমদাদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল কাদের, অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।


অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা আমীর মো: বেলাল হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর আমীর মোঃ মাহের আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমীর অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, দর্শনা থানা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, গাংনী আসমানখালী থানা আমীর মোঃ আব্বাস উদ্দিন, জীবননগর উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা আমীর মোঃ নায়েব আলী, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর দারুস সালাম।
শোকরানা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাড. মো: রুহুল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমাদের মুখের ভাষা হনন করে ছিলেন। আমাদের স্বাধীনতাকে তারা হনন করে ছিলেন। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য তারা বন্ধ করে দিয়ে ছিল। আমাদের চাকরি বন্ধ করে ছিল। আওয়ামী লীগ বলে আমরা স্বাধীনতা এনেছি কিন্তু আমরা বলি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ স্বাধীনতা এনেছে রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যকে আবার নিভিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের যতগুলো মন্দিরে আক্রমন হয়েছে, তদন্ত করে দেখা গেছে সবগুলোর পিছনে আওয়ামী লীগই দায়ী। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের যত সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, তার পিছনে আওয়ামী লীগই দায়ী। আজকে জামায়াত ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা প্রত্যেকটা মন্দিরে পাহারা বসিয়েছে। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চি আমাদের জন্য আমানত। সংখ্যালঘু মানুষের যত সম্পদ, বাংলাদেশের ব্যাংক-বীমা আমাদের জন্য আমানত। বাংলাদেশের স্থাপনা আমাদের জন্য আমানত। এই আমানতকে কেউ যদি নসাৎ করতে চাই, তার বিরুদ্ধে জামায়াত এবং ছাত্রশিবির ২৪ ঘন্টা পাহারার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত এদেশে নিরাপত্তা, সুশিক্ষা দিতে চাই। জামায়াত আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাতার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে চাই।

শোকরানা সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দীন। এরপর সজোরে মাইকে জামায়াতের দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। দলীয় সঙ্গীতটি পরিবেশেনা করেন মাসুম বিল্লাহ ও তার দল।দেশের সকল মানুষের কল্যাণ শান্তি কামনার মাধ্যমে সমাবেশটি শেষ হয়।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31