সরকার ছাত্র আন্দোলন দমনে জুলুম নির্যাতনে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে-মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম
Spread the love

শুক্রবার সকালে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের সভাপতিত্বে, ছাত্র ও যুবকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন। ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না, পারবেও না। জনতার রুদ্ররোষ ক্রমেই গণবিস্ফোরণে রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব বাহিনী নামানো হয়েছে, থামাতে পারেনি। সব রকম নির্যাতনের পরও আন্দোলন বন্ধ করতে পারেনি। আন্দোলন বাড়ছে, আরও বাড়বে। ইসলামী আন্দোলন এবং সকল সহযোগী সংগঠন আন্দোলনকারীদের সাথে এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকারের পরাজয় না হয়। সারাদেশে পুলিশকে গ্রেফতার বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার গ্রেফতার বাণিজ্য করা হচ্ছে। এর সাথে পুলিশ ও সরকার দলীয় লোকজন জড়িত। কিন্তু জুলুম নির্যাতনের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেও সরকারের আখের রক্ষ হবে না। সরকারকে গণহত্যার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতেই হবে।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনের ইতিহাস তারা বলে না। তখন তারা এক ভয়ঙ্কর শাসন ব্যবস্থা উপহার দিয়েছিল জাতিকে। বাকশাল কায়েম করে জনগণের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছিল। ৭৫এর খুনিদের বিচার হলে ২০২৪ এর খুনি শেখ হাসিনারও বিচার হবে। হাজার হাজার ছাত্র ও বাচ্চা খুন করেছে এই অবৈধ সরকার। তিনি বলেন, আমরা নমরুদ, ফেরাউন, সাদ্দাদকে দেখিনি, কিন্তু আমরা শেখ হাসিনাকে দেখেছি কত ভয়ঙ্কর, কত খুনি, কত মিথ্যাবাদী, জালিম। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সভায় ওবায়দুল কাদেরকে সবাই ভুয়া ভুয়া বলে তিরস্কার করেছে। লজ্জা থাকলে কাদের জাতির সামনে মুখ দেখাতো না। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন মজলুমের পক্ষে, জালিমের বিরুদ্ধে। মজলুমের বিজয় হবেই, জালিমের পরাজয় খুব নিকটেই। তিনি ছাত্র ও যুবদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগের তুলনায় আরো শক্তি ও সাহস নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই অবৈধ জালিম সরকারের পতন আন্দোলন ত্বারন্বিত করতে হবে।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববাসী এই হত্যার ভিডিও দেখেছে, সেখানে পুলিশ তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু এই জালিম ও খুনি ১৬ বছরের একটি বাচ্চাকে আবু সাঈদের খুনি হিসেবে গ্রেফতার করেছে। জুলুম ও মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা চাই।

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর বলেন, শেখ হাসিনা বললেন, আমাকে কেন বিদায় নিতে হবে, কে দেশ চালাবে? এই নির্লজ্জ সরকার লজ্জা থাকলে এমন কথা বলতো না। এজন্য খুন ও নির্যাতনের পথে হাঁটছে সরকার। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ প্রমাণ হলে সংবিধান অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা যাদেরকে নিযোগ দিয়েছে এরা সবাই দুর্নীতিবাজ। শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হলে, শেখ হাসিনা কত কোটি টাকার মালিক? পিয়ন দুর্নীতিবাজ হলে মালিক (শেখ হাসিনা) দুর্নীতিমুক্ত কিভাবে? পুলিশের আইজি, সেনাপ্রধান, মতিউরসহ সবাই দুর্নীতিবাজ। কাজেই এই সরকারও দুর্নীতিববাজ সরকার। তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। এই আন্দোলন কেবল কোটার আন্দোলন নয়, এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন এখন সরাসরি এসব হত্যার বিচার চায়। ওই সব মন্ত্রী, যাঁরা গুলির নির্দেশ দিয়েছেন, উসকে দিয়েছেন ছাত্রলীগকে, তাঁদের পদত্যাগ চায় দল থেকে এবং সরকার থেকে। প্রধানমন্ত্রী যাতে সব হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চান, শিক্ষার্থীরা সেই দাবি করেছেন। এগুলো মানতে হবে। সরকারের মধ্যে একধরনের গৃহদাহ শুরু হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, যে তরুণেরা শিক্ষাঙ্গনে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্কুলে, কলেজে বুক চিতিয়ে দিচ্ছে, তারা হয় আপনার সন্তান, আপনার ভাই, আত্মীয়। তাদের বুকে গুলি চালাবেন না। জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে জনগণের বুকেই রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, ছররা গুলি নিক্ষেপ করবেন না। এ রকম একটি হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর এই লাশের কারবালায় দাঁড়িয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই। এ কথা এখন বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিধ্বনি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে সারা দেশের মানুষ লাল কাপড়ে, লাল ফিতায়, ফেসবুক লাল প্রতীকে ভরিয়ে দিয়েছে। এই যে গণ অনাস্থা এটা জনগণ এই সরকারের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা জানিয়েছে। এই অবস্থা আর চলতে পারে না। এটা রাজনৈতিক সংকট। রাজনৈতিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। সমাধান হচ্ছে পদত্যাগ করুন এবং অন্তরবর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।

কর্মসূচি : আগামিকাল ৩রা আগস্ট, শনিবার, বিকাল ৩টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থানা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন দলের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মানসুর আহমাদ সাকী ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুনতাছির আহমাদ, দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক সম্পাদক ও যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল বশর আজিজী, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান মুজাহিদ, এইচ এম কাওছার বাঙালি, এ্যাডভোকেট বায়জিদ, মুহাম্মাদ মিশকাতুল ইসলাম, মুহাম্মাদ আল আমিন, খায়রুল আহসান মারজান।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31