শ্রীপুরের সুস্বাদু কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়
Spread the love

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে বসে কাঁঠালের বিশাল বাজার।
গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রতিটি গ্রামের অলিগলি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির আঙিনায় রয়েছে ফলের বাগান—যেখানেই তাকাবেন আপনার নজর কাড়বে কাঁঠালগাছ। আর এসব গাছে ঝুলছে সুস্বাদু কাঁঠাল। শ্রীপুরের কাঁঠালের সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। পরিকল্পনা চলছে বিদেশে পাঠানো হবে। কাঁঠালের রাজধানী হিসেবে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী জৈনা বাজারের অবস্থানও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় । কাঁঠালের এই বিশাল পাইকারি ও খুচরা বাজার ইতিমধ্যে জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা আর বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে কাঁঠালের বাজার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোদমে চলে কাঁঠাল বেচাকেনা। সন্ধ্যার পর থেকে কাঁঠাল ট্রাকে ভরে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায় । কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করে কৃষকদের উৎপাদিত কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পেতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাঁঠাল রপ্তানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে কমবেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয় উপজেলার কাওরাইদ, তেলিহাটি, গাজীপুর ও মাওনায়। এসব ইউনিয়নের অনেক গ্রামে কাঁঠালের বড় বড় বাগান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে বসে কাঁঠালের বিশাল বাজার। সূর্য ওঠার আগেই পিক-আপ, ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা, ঠেলাগাড়িতে করে কাঁঠাল এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কাঁঠাল বিক্রেতারা। সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাঁঠাল। পাকা কাঁঠালের গ্রাম গ্রান ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা এই কাঁঠাল দামদর করে কিনে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় স্তূপ করেন। সন্ধ্যার পর থেকে স্তূপ করে রাখা কাঁঠালগুলো নির্দিষ্ট ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
জৈনা বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে কাঁঠাল বিক্রি করতে এসেছেন যোগীরসিট গ্রামের কাঁঠাল ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া। কাঁঠালের বাজারে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর সাড়ে ৪ লাখ টাকার বাগান কিনেছেন স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে। বাগানে ফলনও ভালো হয়েছে। ছোট-বড় কমবেশি সব গাছে কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। ভোররাত থেকে বাগান থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করে ভ্যানগাড়িতে করে জৈনা বাজারে বিক্রি করেন প্রায় প্রতিদিন। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের দামও একটু কম বলে জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা এ সকল কাঁঠাল দামদর করে কিনে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় স্তূপ করেন।
নিজ মাওনা গ্রামের কৃষক রফিকুল বলেন, অন্যান্য বছর গ্রামের পাইকারদের কাছে কাঁঠালের বাগান বিক্রি করি। এ বছর দামদরে মেলেনি, তাই বিক্রি হয়নি। দৈনিক হাজিরায় শ্রমিক নিয়ে পিক-আপে করে কাঁঠাল বিক্রি করছি জৈনা বাজারে। দাম খুবই কম। শ্রমিক খরচ আর পরিবহন খরচ দিয়ে আমাদের তেমন কিছু থাকে না।
মুন্সিগঞ্জের পাইকার নায়েব আলী ব্যাপারী বলেন, ‘জৈনা বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলায় কাঁঠাল বিক্রি করি। শ্রীপুরের জৈনা বাজার থেকে কাঁঠাল কিনি বহু বছর। এই অঞ্চলের কাঁঠাল অন্যান্য এলাকার চেয়ে মিষ্টি, সুস্বাদু আর রসালো। তাই আমাদের জেলায় এই অঞ্চলের কাঁঠালের বেশ চাহিদা। কিন্তু পরিবহন খরচ দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় আমরা কৃষকদের বেশি দাম দিতে পারি না।’
জৈনা কাঁঠাল বাজারের ইজারাদার আব্দুল হান্নান বলেন, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। পাইকারদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়, যেন নির্বিঘ্নে কাঁঠাল কিনতে পারেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31