
বরিশালের হিজলা উপজেলার কাউরিয়া বাজারে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে বাজারে ফ্রিজের পচা মাংস বিক্রি করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে হিজলা উপজেলার সাধারণ মানুষ । দিনের পর দিন পশু জবাই করে, পশু সম্পদ বিভাগ বা স্যানিটারি বিভাগের নজরদারি না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৷ গুয়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের কাউরিয়া বাজার থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে মাউলতলা স্কুল সংলগ্ন আজিমপুর গ্রামে রুগ্ন ও কঙ্কালসার পশু রাতে জবাই করে মাথা,চামড়া এবং খুড়াবিহীন গোস্ত ভোরে ভ্যানে করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন জলিল কসাই’র ছেলে শাকিল।রাস্তার পাশে গরুর রক্তগুলো খাচ্ছে কুকুরে। খালের মধ্যে ফেলা হচ্ছে পশুর মলমুত্র ও নারিভুড়ি ।
এভাবেই প্রতিদিন কসাই জলিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু ছাগল জবাই করে আসছেন । বাজারে বেশি মাংসের দোকান না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে ক্রেতারা কিনে খাচ্ছেন এসব পচা মাংস । তাছাড়া জলিলের বিরুদ্ধে পরীক্ষা ছাড়াই রাতের আধারে রুগ্ন ও কঙ্কালসার পশু জবাই করে ফ্রিজের পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।
কাউরিয়া বাজারে একটি মাংসের দোকানে ঈদের দিন সকালে কসাই জলিল গরুর পচা মাংস বিক্রি করছিলেন। এনিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়।বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে এ সকল গরু চোরের সাথে সক্ষতা রয়েছে কসাই জলিলের বলেও অনেকের ধারনা।
স্বাস্থ্যসম্মত মাংস বিক্রি নিশ্চিত করতে আধুনিক পশু জবাই কেন্দ্র নির্মাণ এবং পশু জবাইয়ের আগে প্রতিটি পশুর পরীক্ষার দাবি জানান তারা । ক্রেতাদের অভিযোগ পশু জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ ও উপজেলা স্যানেটারি বিভাগের কর্মকর্তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখানে আসেন না।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান,জলিলের ফ্রিজে থাকা পচা গরুর মাংস প্রতিদিন তাজা গরুর রক্ত এনে এই পচা মাংস রক্তের মধ্যে ভিজিয়ে রাখে।পরবর্তীতে এই পচা মাংসগুলো তাজা মাংসের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি করে । দোকান মালিক কসাই জলিল জানান ৷ একটি গরুর ওজন ৫ মন হলে যদি ৪ মন বিক্রি হয় বাকি মাংসগুলো তিনি ফ্রিজে রাখেন। ফ্রিজে রাখা মাংস বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিক্রি করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ গরুর মাংস খেলে মানুষ অ্যানথ্রাক্সসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে । প্রতিটি বাজারে কোন অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই না করার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। কিন্তু কসাই জলিল এ সকল আইন কানুন মানেন না। এ প্রসঙ্গে হিজলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো.শহিদুল ইসলাম জানান,কসাই জলিলের বিরুদ্ধে পচা মাংস বিক্রি করার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।










