প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া ৩ শতাধিক মানুষকে  ফিরিয়ে আনতে অবশেষে নৌ যান চলাচল শুরু
Spread the love

বঙ্গোপসাগর দিয়ে  ৩ শতাধিক আটকা পড়া মানুষ কে নিয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ  রুটে যান চলাচল শুরু হয়েছে। গত ৫ জুন ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বন্ধ হওয়া সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের অবশিষ্ট  উপজেলা  নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা শেষে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন অফিসারদের নিয়ে সেন্টমার্টিন  থেকে ফেরার পথে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়তকারি নৌযান লক্ষ্যকরে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। যার কারণে  টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ রুটে  সাতদিন নৌ যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে মিয়ানমারে আটকা পড়া ৩ শতাধিক পর্যটকও সাধারণ মানুষ সহ দ্বীপ বাসী ব্যাপক খাদ্য সংকটে পতিত হয়।

বিষয়টি  নিরঙ্কুশ নিরবিবেচনায় এনে  অবশেষে  বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায়  নৌ যান চলাচল শুরু করেছে। তবে বৃহস্পতিবার নাগাদ  পণ্যবাহী কোন ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে ছাড়েনি বলে জানিয়েছেলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার সাগর উপকূলের পয়েন্ট দিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে  ট্রলার যোগে  আটকা পড়া প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী।

তিনি আরো জানান , দুপুর ১ টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩ টি ট্রলার যোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় অন্তত তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। বিকাল ৩ টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কূলে উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরে কূল থেকে কয়েকটি ডিঙ্গি নৌকা উপকূলের কিছু দূরে সাগরে  অবস্থানকারি ট্রলারগুলোর কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বড় ট্রলার থেকে এসব মানুষকে ডিঙ্গি নৌকায় তুলে কূলে নিয়ে আসা হয়ে।
পরে আরো ৩ শতাধিক মানুষ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গত ৭ দিন দ্বীপে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় দ্বীপের খাদ্য পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এখন বিকল্পভাবে ট্রলার চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলছে। যে ট্রলারগুলো গেছে ওই সব ট্রলার নিয়ে টেকনাফে থাকা মানুষ ফিরে আসবে।

টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ইউএনও আদনান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের সাগরের বিকল্প পথে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও পণ্যবাহী কোন ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে টেকনাফ ছাড়েনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, মুলত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে বড় জাহাজ যোগে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যাবেন। এটা ব্যবসায়ী এবং জাহাজ মালিকরা মিলে করবেন। প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন। এছাড়া এখন বঙ্গোপসাগর হয়ে যে ট্রলার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে ওখানে কিছু পন্য নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে খাদ্য সংকট হবে না।

এদিকে, টেকনাফের নাফনদীর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের নিকটে টানা ২ দিন ধরে দেখা মিলছে বড় ধরণের এটি জাহাজ। আর সেই জাহাজ ও মিয়ানমারের স্থলে ভাগে বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চলছে গোলাগুলি,এপারে ভেসে আসছে মর্টাশেলের বিকট শব্দ। এ  বিকট শব্দে প্রবল প্রকম্পনে প্রকম্পিত  হচ্ছে টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31