
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একাধিক বার এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করা বন্ধ করতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে এক ইভটিজারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাথাচুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইভটিজার, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কাথাচুরা এলাকার মৃত নীল মিয়া ওরফে নাহিদের ছেলে রনি মিয়া। সে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র।
এলাকাবাসী,উভয় পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,রনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে যাওয়া-আসার পথে একই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে আসছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে একাধিকবার ওই ছাত্রের পরিবার, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানালেও তাকে ক্ষান্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে বিচার করেনি ওই ইভটিজারের অভিভাবকরাও।বিচার দেওয়ায় উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই ইভটিজার রনি। বিভিন্ন সময় ছোট বোনকে রাস্তা-ঘাটে বিরক্ত করায় বড় ভাই প্রতিবাদ করায় গত শনিবার বড় ভাই পারভেজকে চাকু দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে, রনি মিয়া। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর পরিবারসহ স্থানীয় কয়েকজন রনিকে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় আহত রনির চাচা উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা, চাচাসহ কয়েকজনের নামে মারধর ও চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ইভটিজিংয়ের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবা আইয়ুব আলী জানান, আমার মেয়েকে বিরক্ত করার বিষয়টি একাধিকবার ওই বখাটে রনির পরিবার, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগনকে জানালেও তার ইভটিজিং বন্ধ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে চাকু মারতে আসে,রনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
অপরদিকে আহতের চাচা উজ্জল মিয়া জানান, আইয়ুর আলী, তার ভাই ও ভাগ্নেসহ কয়েকজন মিলে আমার ভাতিজাকে কুপিয়ে আহত করে। এসময় তারা ভাতিজার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে।
এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবদুল হোসেন জানান, শুনেছি রনি এক ছাত্রীকে বিরক্ত করতো। এ বিষয় নিয়ে সপ্তাহ খানেক আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য বসে রনিকে সাবধান করে দিয়েছিল। কিন্তু মারামারির ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে অভিভাবকরা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে সমাধানের চেষ্টা করবো। আর বিচার করতে না পারলে প্রশাসনকে জানাবো।
কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) সোহেল মোল্লা জানান, শুনেছি ওই মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি এখনো পুলিশ ক্যাম্পে আসেনি। তবে অভিযোগ হাতে পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










