মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলো মোংলা

বহুল প্রতীক্ষিত খুলনা-মোংলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার (১ জুন) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাটের মোংলা রেলস্টেশন থেকে প্রথম যাত্রীবাহী ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনটি বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর আগে মোংলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর নাহার। এ সময় মোংলা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার এইচএম মনির আহমেদসহ রেল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন সকাল সোয়া ৯টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে এসে দুপুর ১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী রেল স্টেশনে পৌঁছায়। সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে চুলকাটি রেল স্টেশন হয়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মোংলা রেল স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের মাঝে ব্যাপক উৎসহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা স্টেশনে আসা যাত্রী শিউলি বাসার বলেন, মোংলা স্টেশনে এসে ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে ইতিহাসের সাক্ষী হলাম। বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে ফুলতলা স্টেশন থেকে উঠে মোংলায় এসেছিলাম আবার মোংলা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মোংলা রুটের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেনে ওঠার এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এদিকে মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধরা। বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এই রেললাইন উপহার হিসেবে দিয়েছেন। আজ মোংলা থেকে বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলো। এটার সুফল শুধু আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ ভোগ করবে না। এ ট্রেন চালুর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হলো। এতে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এর মাধ্যমে আমাদের এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হলো। মোংলা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার এসএম মনির আহমেদ বলেন, মোংলা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। মোংলা থেকে ৩৬১ জন যাত্রী নিয়ে বিকেল ৩টার দিকে ট্রেনটি বেনাপোলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আপাতত প্রতিদিন একটি ট্রেন বেনাপোল থেকে মোংলায় আসবে এবং মোংলা থেকে একটি ট্রেন বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১০ সালে। জমি অধিগ্রহণ, রেললাইন, রেলসেতু নির্মাণসহ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২১ সালে আবারও সময় ও ব্যয় দুটিই বাড়ানো হয়। তখন দাঁড়ায় চার হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ধরা হয়। রূপসা নদীর ওপর ৫.১৩ কিলোমিটার সেতু, ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার পথ হলেও স্টেশনগুলোর ডাবল লাইন হিসাব করে ৯১ কিলোমিটার পথ, ৯টি প্ল্যাটফর্ম এবং ১০৭টি ছোট সেতু এবং ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন কাজও শেষ হয়েছে।

এই ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পর রেল যোগাযোগে যুক্ত হলো মোংলা সমুদ্রবন্দর। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি এই রেলপথের উদ্বোধন করেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হয়। স্থায়ী জনবল নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালু করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031