বৈশাখের শুরু থেকেই টানা খরা ও দাবদাহের কারণে রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে ঝরে পড়ছে বাগানের আমের গুটি। ইতিমধ্যে অনেক বাগানের অন্তত ২০ শতাংশ গুটি ঝরে পড়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তীব্র খরা দীর্ঘস্থায়ী থাকলে আমের গুটি ঝরতে থাকবে। এক্ষেত্রে আমবাগানে পরিমাণমতো ঘনঘন পানি সেচ দিতে হবে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, চলতি বৈশাখের শুরু থেকে দাবদাহে পুড়ছে রাজশাহী অঞ্চল। ঠা-ঠা রোদে তপ্ত কড়াইয়ের মতো তেতে উঠেছে এই অঞ্চলের পথ-ঘাট। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রাণিকুল। সম্প্রতি রাজশাহীতে তাপমাত্রা ওঠে ৪৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহী জুড়ে গত শনিবার থেকে সাত দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। প্রখর রোদ-গরমে সুস্থ থাকতে মাইকিং করে মানুষকে বার বার সতর্ক করা হচ্ছে।
আবার আবহাওয়া অফিস বলছে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠলেই তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
https://www.youtube.com/watch?v=yB-xYM78LFk
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোছা. উম্মে সালমা জানান, জেলার সব উপজেলায় চলতি খরা মোকাবিলা ও বাগানের আমের গুটি টিকিয়ে রক্ষায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তীব্র খরায় আমের গুটি রক্ষায় প্রতিদিন গাছে পানি স্প্রে করার মাধ্যমে আমগাছ ধুয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সেচের ব্যবস্থা না থাকলে অন্তত সকালে বা সন্ধ্যায় গাছে পানি স্প্রে করা উচিত।