আলমডাঙ্গার স্বামী স্ত্রীর জোড়া খুনের তিন আসামিকে ফাঁ’সির আদেশ।
Spread the love

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যার দায়ে তিনজনের ফাসিঁর আদেশ ও একজনের দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

(২ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য যে গত,  ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আলমডাঙ্গা শহরের পুরাতন বাজারে  বসতবাড়িতে ঢুকে একদল সন্ত্রাসী  ব্যবসায়ী নজির মিয়া (৭০) ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুনকে (৬০) গলাকাটা ছাড়াও  শরীরে বিভিন্ন জায়গায়  আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে ডালিয়া পারভীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ সালে চারজন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসান নগর গ্রামের ক্লাবপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে সাহাবুল হক(২৪) ও একই গ্রামের শেষপাড়ার পিন্টু রহমানের ছেলে রাজিব হোসেন (২৫), আসাননগর গ্রামের মাঝেরপাড়ার মাসুদ আলীর ছেলে বিদ্যুৎ আলী (২৩)। আসাননগর গ্রামের স্কুলপাড়ার তাহাজ উদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেনকে (২৩) ২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মামলার ও এজাহারের বিবরণ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন বাজারপাড়ায় বৃদ্ধ নজির মিয়া ও তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন বসবাস করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই দিন রাতে যে কোন সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন বাজারপাড়ার নজির মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে চুরির উদ্দেশ্য। প্রথমে নজির মিয়াকে গোসল খানার ভেতর হাত-পা বেধে জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার স্ত্রীকে ঘরের ভেতর জবাই করে হত্যা করে।

নিহতের মেয়ে ডালিয়ারা পারভীন ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাবা-মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিলে বন্ধ পায়। পরে ঘটনাস্থলে মেয়ে ও জামাই এসে দেখে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ডালিয়ারা পারভীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় ২৫ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন তদন্ত শেষে হত্যায় সরাসরি জড়িত সাহাবুল হক, রাজিব হোসেন, বিদ্যুৎ আলী ও ভিকটিমের মোবাইল কেনায় জড়িত শাকিল হোসেনের নামে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
৷ ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্য ১৯ জনের সাক্ষ্য শেষে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. মাসুদ আলী আসামির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন। রাতে তিন জনকে ফাঁসি, একজনকে ২ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31