
ধর্ষণের মামলায় বড় মনিরের বিরুদ্ধে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা বহিষ্কারের দাবি। টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই গোলামb কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর উত্তরার প্রিয়াংকা সিটির ৬ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। তুরাগ থানার পরিদর্শক আবু সাঈদ মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। ভূ”ক্তভোগী ও তার বাবা অভিযোগ করছেন, বড় মনির এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভূ”ক্তভোগী কলেজছাত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই মাস আগে বড় মনিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারে দেখা করেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে দেখা করার জন্য ভূ”ক্তভোগীকে একটি রেস্টুস্টুরেন্টে ডাকেন বড় মনির। সেখান থেকে অস্ত্রের মুখে ভূক্তভোগীকে তুরাগ থানার প্রিয়াঙ্কা সিটিতে নিজ ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করেন বড় মনির। এই ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে কথা বললে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। অনেকে আবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা এখন সময়ের দাবী। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, শ্রমিক ফেডারেশন নেতাদের কাছে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা এই বিষয়ে কথা বলতে না চাইলেও, তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন বলে জানান।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, সকালে টেলিভিশন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগেও দশম শ্রেণির একটি ছাত্রীর সাথে ফোনালাপ ভাইরাল হয়। তারপর এশা নামক একটা মেয়ে ধর্ষণ মামলা করেছিলেন,পরবর্তীতে সেই মেয়েটি “আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আত্মহত্যা প্ররোচনার কোন মামলা হয়নি। এখন আবার এই একটা ঘটনা। একের পর এক এরকম ঘটনায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছি।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল। তিনি ভূ”ক্তভোগী মেয়েটি যেন সঠিক বিচার পায়, তার দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, একই ব্যক্তির নামে বার বার একই অভিযোগ উঠলে তার কারণে আমরা বিব্রত হই। ঘটনার সম্পর্কে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন বলেন,কয়েকদিন পর পর একটা করে ঘটনা ঘটে,এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। কোন কথার উত্তর দিতে পারি না। ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন দিলে কিছু বলতে পারি না। এখন সত্যতা আছে কি আছে না,পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দিবে, সেটাই আমরা মেনে নিবো। তদন্ত হওয়ার পর যদি দোষী সাবস্ত হয়, বিচার হবে। তবে এই ধরনের ঘটনায় আমরা বিব্রত বোধ করি। কয়েকদিন আগেও একটা ঘটনা ঘটেছে, আবার এর মধ্যে আরেটা ঘটনা। হতে পারে ষড়যন্ত্র, কিন্তু ষড়যন্ত্রের সুযোগ দিবো কেন? এরআগে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। এশা মির্জা নামের এক নারী অভিযোগ করেন, বড় মনির ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। পরে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন ভূক্তভোগী। পরে ওই বছরের ১৮ নভেম্বর বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের বোয়ালী এলাকা থেকে এশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে জানায় পুলিশ। ওই মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন বড় মনির।টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ থেকে এখন বড় মনিরকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে।










