অডিও বার্তাতে আতিক জানান টাকা না দেওয়া হলে জাহাজে থাকা সবাইকে এক এক করে মেরে ফেলা হবে বলেছে জলদস্যুরা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর স্ত্রীর কাছে অডিও বার্তাটি পাঠান তিনিটেকনাফ টুডে ডেস্ক : ‘তাঁদের যত তাড়াতাড়ি টাকা দেবে, তত তাড়াতাড়ি ছাড়বে বলেছে। ফাইনাল কথা, এখানে যদি টাকা না দেয়, আমাদের একজন একজন করে মেরে ফেলতে বলেছে। এই বার্তাটা সবাইকে পৌঁছে দিয়ো। আমাদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে।‘
এমনই আকুতিভরা এক অডিওবার্তা পাঠিয়েছেন ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা (চিফ অফিসার) মো. আতিক উল্লাহ খান। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর স্ত্রীর কাছে অডিও বার্তাটি পাঠান তিনি।
অডিও বার্তাতে জাহাজের চিফ অফিসার বলেছেন জলদস্যুরা টাকা দাবি করেছে। টাকা না দেওয়া হলে জাহাজে থাকা সবাইকে একজন একজন করে মেরে ফেলা হবে।
চন্দনাইশের বরকল এলাকায় মা, স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে থাকেন আতিক। জিম্মি হওয়ার খবরের পর থেকেই মা শাহানুর আকতার কখনো কাঁদছেন, কখনো-বা নামাজে দাঁড়িয়ে দোয়াদরুদ পড়ছেন।
আতিকের মা বলেন, আতিক জানিয়েছেন যে তারা সবাই জাহাজের একটা কেবিনে বন্দী। তাঁদের সোমালিয়া নিয়ে যাচ্ছে জলদস্যুরা। আড়াই দিনের মতো লাগবে ওখানে পৌঁছাতে। সবার জন্য দোয়া চেয়েছেন আতিক।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা শেষবার ফোন করেন আতিক। মেয়েকে বলেন, ‘আম্মুকে বোলো দোয়া করতে। আমাদের ফোন নিয়ে নিচ্ছে। এরপর অডিও ভয়েস হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। তারপর আর ফোন খোলা পাওয়া যায়নি আতিকের।
গতকাল বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজে আতিক উল্লাহসহ ২৩ বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।