কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে কারখানায় বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোষাক তৈরির কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে। সংগঠনটি শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার কারখানা কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।
তবে কারখানার শ্রমিকরা জানান, সামনে ঈদ। এই মুহুর্তে ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে কারখানায় আন্দোলন হলে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিতে পারে। কারখানা বন্ধ হলে তারা ঈদ উদযাপন করতে পারবে না। তাই শ্রমিকরা এই মুহুর্তে কোনো ঝামেলা চাইছে না।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এম এস এ স্পিনিং এবং হ্যামকো ফুটওয়্যার কারখানার শ্রমিক পরিচয়ে কয়েকজন বৈঠক করে। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে ওই কারখানা দুইটি বন্ধ রয়েছে। ওই দুইটি কারখানার কিছু সংখ্যক শ্রমিক বৈঠকে শামিল হয়। এসময়ে ওই শ্রমিকরা তাদের পাশের সচল লিবাস টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা ও নানা গুজব জড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এসময়ে এলাকাবাসীর ঐ শ্রমিকদের সন্দেহ হয় যে, তারা এলাকায় আবারও অস্থিরতা বিরাজ করার পায়তারা করছে। পরে তারা গোপন বৈঠকে থাকা বহিরাগত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতানামধারী দের ধাওয়া করে এলাকা থেকে বিতারিত করে দেয়। ওই দিনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই নানা ভাবে লিবাস কারখানার শ্রমিকদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বহিরাগতরা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিক ফেডারেশনের লোকজন স্থানীয় দুইটি কারখানার শ্রমিকদের এর আগে নানাভাবে উস্কানি দিয়ে কারখানায় অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। যার কারণে এম এস এ স্পিনিং দীর্ঘ প্রায় এক বছর বন্ধ ছিল। এছাড়াও হ্যামকো ফুটওয়্যার কারখানা গত সাত দিন বন্ধ ছিল। এম এস এ কারখানা বন্ধ থাকায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। লিবাস কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কারখানা কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছে।
নিশ্চিন্তপুর লিবাস কারখানা গেইটের সামনের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, ওই দিন শরিফুল এবং জগদীস এখানে এসে মিটিং করছিল। তখন এলাকার লোকজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে যে তারা আবার কারখানা বন্ধের পায়তারা করছে। তখন তাদের উপর ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ থাকলে দোকানে বেচাকেনা এক প্রকার বন্ধ থাকে। কিছু বহিরাগত নেতাদের কারনে এম এস এ কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন তারা লিবাস কারখানাটিও বন্ধ করার নানা পায়তারা করছে। কোনাবাড়ি এলাকা থেকে কয়েকজন শ্রমিক এই এলাকায় এসে নিজেদের শ্রমিক নেতা দাবি করে কারখানার শ্রমিকদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হামলার স্বীকার জগদীস বলেন, ওই দিন কোনাবাড়ী থেকে শ্রমিক ফেডারেশনের দুইজন লোক আসে। তারা এসে আমার সাথে কথা বলে চলে যায়। এসময় এলাকার কয়েকজন লোক এসে আমাকে বলে তুই আবার কারখানায় অসন্তোষ করার পায়তারা করতাছিস এই বলে আমাকে মারপিট করে। তবে এখানে লিবাস কারখানার কোন লোক জড়িত ছিল না।
লিবাস টেক্সটাইল কারখানার মহা ব্যবস্থাপক ( মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মো. মাসুদ রানা বলেন, সম্প্রতি কারখানার সামনে বাজারে মারপিটের ঘটনা ঘটে। সেখানে আমাদের কারখানার কোন লোক জড়িত ছিল না। কিন্তু একটি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা এটি নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। তারা আবারো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ করার পায়তারা করছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031