
আজ শনিবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে আমেলার সভায় সভাপতির বক্তব্যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দেশের রাজনীতিও এখন আর এদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় না। দেশের সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ হয় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, বিতর্কিত শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তন ও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোট করার প্রতিবাদে আগামি ৩১ জানুয়ারি সারাদেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ এবং ৩ ফেব্রুযারি ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও সভায় আগামি ১৫ ফেব্রুযারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সারাদেশে ১৫ দিনব্যাপী দাওয়াতী পক্ষের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দেশে সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। সরকারের বারবার ব্যর্থতার কারণেই মূল্যস্ফীতি এখন সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। ভেঙে পড়েছে জাতীয় অর্থনীতি, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বরং তারা যা করছে তার সাথে জনগণের স্বার্থের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকার এখন ডামি ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা জবর দখল করে জনগণকে শোষণ করছে।
তিনি বলেন, সরকার এখন ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য মরিয়া, তিনি তামাশা ও ভাগবাটোয়ারার নির্বাচন বাতিল করে জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান, জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকার একতরফা প্রহসনের ডামি নির্বাচনের পর দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন । সরকার নিত্যপয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ।
শিক্ষা প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ট্রান্সজেন্ডারসহ শিক্ষার অসঙ্গতি দূর করে ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা-চেতনা, তাহজীব-তামাদ্দুন জাতিসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম প্রণয়নের দাবি জানান। আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যপুস্তক থেকে অপ্রয়োজনীয় চিত্রগুলো বাদ দিয়ে মাদরাসার স্বকীয়তা বজার রাখার আহ্বান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব, প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আমেলার সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ,কৃষিবিদ আফতাব উদ্দিন, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ হারুন অর রশিদ, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, আলহাজ্ আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারূফ, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, শোয়াইব হোসেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট হাছিবুল ইসলাম, জিএমস রুহুল আমীন, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম আল আমীন, বরকত উল্লাহ লতিফ, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, আলহাজ সেলিম মাহমুদ, আব্দুল আউয়াল মজুমদার।