
আল্লাহর এক ওলী হযরত সায়্যিদ আব্দুল কাদের জিলানী ৷ তার বাল্য জীবনের ঘটনা ৷ তিনি ইলম অর্জনে বাগদাদ যাবেন ৷ আম্মা চল্লিশটি স্বর্ণমোহর জামার ভিতর দিকে রেখে জামাটি সেলাই করে দেন এবং বলেন : বাবা আব্দুল কাদির, বিপদ-আপদ যা-ই আসুক, সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে ৷ সব সময় সত্য কথা বলবে ৷
যথাসময়ে তিনি একটি কাফেলার সাথে বাগদাদ রওয়ানা হলেন ৷ পথে ডাকাত দল আক্রমন করল ৷ সঙ্গীলোকজনের সব জিনিস ডাকাতরা কেড়ে নিল ৷ এক ডাকাত বলল, ওহে বালক, তোমার কাছে কি আছে? তিনি বললেন, আমার জামার ভিতরে সোনার মোহর আছে ৷ ডাকাতরা দেখল, বালকের কথা সত্য ৷
ডাকাত সর্দার বলল, তুমি গোপনে রাখা মোহরের কথা বললে কেন? বালক আব্দুল কাদির বললেন, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি ৷ সব সময় সত্য কথা বলি ৷ আমার আম্মা সব সময় সত্য কথা বলতে উপদেশ দিয়েছেন ৷ আমি আমার আম্মার কথা মানি ৷
ডাকাতরা ভাবল, অল্প বয়সী এ বালকের চরিত্র কত ভালো ৷ সে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে ৷ মায়ের উপদেশ মানে ৷ সত্য কথা বলে ৷ অন্য দিকে তারা ডাকাতি করে ৷ মানুষকে কষ্ট দেয় ৷ মিথ্যা বলে ৷ এসব ভেবে ডাকাতদের স্বভাব বদলে গেল ৷ তারা ডাকাতি ছেড়ে সত্য পথে চলা আরম্ভ করল ৷ সত্যবাদী মানুষকে আল্লাহ সাহায্য করেন ৷ সত্যের প্রভাবে মন্দ স্বভাব দূর হয় ৷
সত্য কথা বলা একটি মহৎ গুণ ৷ সত্যবাদী ছেলে-মেয়েকে সবাই ভালোবাসে ৷ যে সত্যবাদী, সে আল্লাহর কাছে প্রিয় ৷
অন্য দিকে মিথ্যা বলা সকল পাপের মূল ৷ মিথ্যা বলায় দুশমনী ও ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয় ৷ হাদিসে পাকে প্রিয়নবী সা. মানুষকে সত্য কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন । সত্যবাদিতার অনেক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন । মানুষকে সত্যবাদী হতে অনেক মর্যাদা ও উপকারিতার কথা তুলে ধরেছেন । হাদিসের বর্ণনায় সত্যবাদিতার যেসব উপকারিতা উঠে এসেছে; তাহলো-
হজরত আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনু আলি ইবনু আবি ত্বালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই শব্দগুলো স্মরণ রেখেছি যে, ‘তুমি ঐ জিনিস পরিত্যাগ কর, যে জিনিস তোমাকে সন্দেহে ফেলে এবং তা গ্রহণ কর যাতে তোমার সন্দেহ নেই। কেননা, সত্য প্রশান্তির কারণ এবং মিথ্যা সন্দেহের কারণ।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)
অন্য এক হাদীসে মহানবী সা. বলেন : আলী ইবনে আবু তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে মুখস্থ করেছি, ‘যে কাজের ব্যাপারে মনে সন্দেহ হয়, সে কাজ ছেড়ে দিয়ে সন্দেহমুক্ত কাজ করো। কেননা সত্য প্রশান্তিকর এবং মিথ্যা দ্বিধাযুক্ত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৮)
এ কারণেই কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে সত্য আসলে অন্ধকার থাকবে না। সত্য অন্ধকারকে আলোকিত করে দেয়। আল্লাহর ঘোষণা-
وَ قُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَ زَهَقَ الۡبَاطِلُ ؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ کَانَ زَهُوۡقًا
‘আর (হে রাসুল আপনি) বলুন! ‘সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলীন হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলীন হওয়ারই ছিল।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৮১)
সুতরাং মানুষের উচিত, সব সময় সত্য কথা বলা। সত্যবাদিতার আদলে নিজেদের তৈরি করা। সত্যবাদিতার মর্যাদা ও উপকারিতা পাওয়ার চেষ্টা করা।
সত্য মানুষকে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করে ৷ মিথ্যা ধ্বংস ও ক্ষতি ডেকে আনে ৷ সত্য কথায় আল্লাহ খুশি হন ৷
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য কথা বলা, সত্যবাদিতার গুণে নিজেদের তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন
কোরআন হাদীসের আলোকে গল্পটি লিখেছেন
মোঃ জাহিদ হোসেন
এস এফ টিভি প্রতিনিধি
হিজলা উপজেলা ৷
01775916825