
বরিশালের মানুষের আর কোনো দুর্ভোগ থাকবে নাজা তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বরিশালে এসেছি : প্রধানমন্ত্রী ।
বরিশালে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করেছিল। ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য না গড়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছিল বিএনপি-জামায়াত। তারা মানুষের সম্পদ ধ্বংস করেছে। উন্নতি করেছে নিজের আর্থিক অবস্থা। জনগণের কথা তারা ভাবেনি। সেই দলই এখন বাসে-ট্রেনে আগুন দিয়ে ক্ষতি করছে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। হুমকির মুখে ফেলছে মানুষের জীবনমাল। শুক্রবার বিকেলে বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ’র আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশালবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের জন্য সুখবর আছে, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা-পায়রা পোর্ট পর্যন্ত ৬ লেনের রাস্তা তৈরি করে দিব। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথে আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে আমরা অর্থ নিব। এই বরিশালের মানুষের আর কোনো দুর্ভোগ থাকবে না। আধুনিক রাস্তা তৈরি করে দিয়ে চলার পথ সহজ করে দিবো। আজ এই বরিশালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এসেছি। তিনি আরও বলেন, আমি এমন অবস্থায় দেশে ফিরেছিলাম যখন এই দেশে আমার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। চারদিকেই পাকিস্তানের দোসররা ছিল। আমি দেখেছি কীভাবে ভোট চুরি করে, কীভাবে গণতন্ত্র হরণ করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করেছি। তখন থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারাই নির্বাচন শেষ করে দেয়। এরা মানুষের স্বার্থ চিন্তা করে না। তাদের উদ্দেশ্যই লুটপাট করা ও মানুষ পুড়িয়ে মারা চিন্তা। আজ বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, সেটা বিএনপির আমলে ছিল না। দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ শতাংশে এনেছি। দেশের আট লাখ ৪১ হাজার গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর দিয়েছি। ২১টি জেলা গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছি। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়। আমরা সেই লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, দেশে খাদ্যের কষ্ট হবে না। আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। ৯ কোটি মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করেছি, যা বিএনপির আমলে এমন কল্পনাও ছিল না। আমরা পোশাকশ্রমিকের মজুরি ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় করিয়েছি। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সহজলভ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। এখন গ্রামের মানুষও টাস্ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে মানুষ। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কিছুতেই বরিশালকে ছাড়া হয় না সব দিকে উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি। পায়রাবন্দর, তাপ বিদুৎ কেন্দ্র, রেললাইন,পদ্বাসেতুসহ ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ফোর লেন হচ্ছে। ভাষণের শেষে বরিশালবাসির কাছে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এসময় তিনি নৌকাকে বিজয়ী করতে জনসভায় উপস্থিত সকলকে হাত তুলে ওয়াদা করান। বিকেল ৩ টার দিকে জনসভার মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বরিশালের আঞ্চলিক গান শুনিয়ে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শিল্পীরা। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণঅচ্ঞলের রাজনৈতিক অভিবাক আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি লালকার্ড পেয়ে গেছে। বিএনপি আর নাই। খেলা হবে, খেলায় হবে। খেলায় আছে এক হাজার ৮৯৬ জন। সারাদেশে নির্বাচনে ৩০০ আসনে এরাই খেলবে। বিএনপির ধর্মঘট, অবরোধ, রাজনীতি কর্মসূচি সব ভুয়া। বরিশালবাসি বড়ই ভাগ্যবান। বরিশালে সবদিকে শুধু উন্নয়ন রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ। আলো আর আলো। এর পূর্বে দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেল ৩টায় বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভা মঞ্চে ওঠেন তিনি। বরিশালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত প্রমুখ।










