গাজীপুর-১ আসনের ভোটের লড়াই হবে প্রতিদ্বন্দিতাপুর্ন, প্রচার প্রচারণা এগিয়ে চলেছে সমানে সমানে।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ এ্যাড. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল। তাদের ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় গাজীপুর-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর(নৌকা) সাথে সমানে সমানে তাল দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল(ট্রাক) । স্থানীয় ভোটারদের এমনই অভিমত। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনায় মুখরিত তাদের সমর্থক ও ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর অদুরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হচ্ছে গাজীপুর-১। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা, কালিয়াকৈর পৌরসভা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে ১৮ নাম্বার ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি। টানা তিন বার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি দখল করে রেখেছেন হেভিওয়েট মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও চর্তুথ বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯শে মার্চের এ মহানায়ক। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি গত ১৯৭৩-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ৩ বার জয়দেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান, ১৯৮৯-২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ দফায় গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ২০০৮ সালে পৌর মেয়র থেকে পদত্যাগ করে প্রথমবার নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন বর্ষিয়ান এ নেতা। এরপর তিনি দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এ আসন থেকে পূনঃনির্বাচিত হন। পর পর দুই বার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন স্বাধীনতা পুরষ্কার প্রাপ্ত এ নেতা। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার নিজ আসনে ব্যাপক উন্নয়নে ভুমিকা রাখার জন্য সাধারণ ভোটারদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর উপরই আস্থা । অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন রেজাউল করিম রাসেল। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পেয়েও, বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সর্বশেষ ২০২১ সালে কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন এ নেতা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) রেজাউল করিম রাসেল বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ রয়েছে, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে নির্বাচন কমিশন অগ্রসর হচ্ছে।অবাধ, সুষ্ঠ কারচুপি বিহীন নির্বাচন হলে, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারুন্যকে কাজে লাগিয়ে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। গত ৪২ বছর কালিয়াকৈরের মাটি থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য মহান সংসদে যেতে পারেনি। যেহেতু কালিয়াকৈর বাসী, মাটির সন্তানকে সংসদে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে। সেহেতু আমি বিশ্বাস করি এবার জনতা মাটিকে ভোট দিতে যাচ্ছে। তবে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
স্থানীয়রা বলছেন, জুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত কিছু নেতাকর্মী ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়াও কালিয়াকৈর থেকে এমপি চান উপজেলাবাসী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নবীন এ নেতার ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফলে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। আর বেশির ভাগ নেতাকর্মী নৌকার পক্ষে কাজ করছেন এবং ব্যাপক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকার প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান স্থানীয়রাও। বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ওই প্রার্থী ও সমর্থকরা ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। ফলে প্রবীণ আর নবীণের লড়াইয়ের সম্ভাবনায় দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনায় মুখরিত তাদের সমর্থক ও ভোটাররা। ওই দুই প্রার্থীর লড়াই হলেও মন্ত্রীর ব্যাপক গণজোয়ারে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
নৌকার প্রার্থী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ৫০ বছর যাবত জনপ্রতিনিধিত্ব করছি। এই সময়ে দলের কার্যক্রলাপে ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে সততার সাথেই কাজ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণ নির্বাচনে সে কাজের মূল্যায়ন করবে। আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলে এ আসনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো। এছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি রোধসহ নাগরিক সুবিধা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভুমিকা রাখবো। এই বর্ষিয়ান নেতাকে রুখে দিয়ে, পরিবর্তনের পক্ষে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন,তারুন্যের আইডল গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তার মিডিয়া সেল বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে,তিনি ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন কালিয়াকৈরের ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ট্রাক মার্কার পক্ষে জন সংযোগ করে বেড়াবেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী জানান, আগামী ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।