পিরোজপুর কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন।
(নুরুজ্জামান খোকন)
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২৩ পালন উপলক্ষে,
(সংবাদ সম্মেলন)
"নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে এগিয়ে আসুন,সহিংসতা প্রতিরোধে বিনিয়োগ করুন" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপস্থিত সাংবাদিক ভাই ও বোনদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন - মহিলা পরিষদের সভানেত্রী সুনন্দা সমদ্দার:-----------
২৫/১১/ ২০২৩ বৈকাল ৪ ঘটিকার সময় মহিলা পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার নিজস্ব কার্যালয়ে, উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দের উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়, বক্তব্যে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আন্দোলনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী পুরুষের সমতা ও নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী ও কন্যার প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা মূলক মানবিক সাংস্কৃতিক গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেন। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-নির্বাচনের পূর্বে সময়কালে ও নির্বাচনের পরে নারী ও কন্যাদের প্রতি নানা ধরনের সংসিতার ঘটনা ঘটে আসছে। তিনি আরো বলেন এর আলোকে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে এগিয়ে আসুন সহিংসতা প্রতিরোধে বিনিয়োগ করুন এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে এবছর পালন করেছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ, বর্তমানে সুশাসনের অভাব পরিবার এবং সমাজের অভ্যন্তরে বিরাজমান কুসংস্কার পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনা সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়সের আগেই ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়,বাল্যবিয়ের কারণে বাড়ে নারী ও কন্যার প্রতি নানা ধরনের পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা। নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে, সহিংসতা তো কমছেইনা বরং বাড়ছে ধর্ষণ শিশু ধর্ষণের ঘটনা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে দেশের সরকার বেসরকারি সংগঠন নারী আন্দোলন গণমাধ্যম নাগরিক সমস্যা সচেতন মানুষের বহুমাত্রিক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও কেন নারী ও কন্যাদের প্রতি সহিংসতা পাশবিকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ব্যক্তি পরিবার ও নাগরিক সমাজের করণীয়:----
পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা সহনশীলতার সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধকরণ,শিশু-কিশোরদের নারীদের সম্মান দেয়ার শিক্ষা, সকল ক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যার সম অধিকার নিশ্চিত, যৌতুক বাল্যবিবাহ পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, এবং সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই সাথে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল যৌন হয়রানীর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সহিংসতার শিকার নারী ও কন্যাদের কাউন্সিলিং সেবা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য অধিক সংখ্যায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু করন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আন্দোলন শক্তিশালী সহ নির্বাচনের আগে এবং পরবর্তীতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন সহ নারী ও কন্যার উপর সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করন। তিনি আরো বলেন আমরা গণমাধ্যম সহ নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই আসুন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করি, সবাইকে ধন্যবাদ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বক্তব্য সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উক্ত সম্মেলনে সাংবাদিকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ নুরুল হুদা বাবু, রিয়াদ মাহমুদ শিকদার, বশির আহমেদ, মাহফুজুর রহমান,নুরুজ্জামান খোকন, এছাড়াও মহিলা পরিষদের সদস্যবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক সাহিদা হক,সহ সভাপতি জাহানারা বেগম সহ মাহফুজা মিলি, কুমকুম ভট্টাচার্য, সুম্মা মীর,শিমুল চক্রবর্তী, রিপা আক্তার ও রেক্সোনা খানম।