
এমপিও উপজেলা চেয়ারম্যান এর মধ্যে দ্বন্দ্বে নেতাকর্মী দিশেহারা
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু।
তিনি এমপি শুভকে সন্ত্রাসী ও বহিরাগত আখ্যা দিয়ে বলেন, টাঙ্গাইল হটাও মির্জাপুর বাঁচাও। এটাই হোক সবার স্লোগান।
রোববার রাতে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর বড়চালায় দুই দিনব্যাপী বাউল সংগীত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর্জা শামীমা আক্তার শিফা।
মীর এনায়েত হোসেন মন্টু মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোর্ড এর চেয়ারম্যান ছিলেন এরপর তিনি উপজেলা পরিষদে পরপর তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এই নেতা তাঁর বক্তব্যে এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শুভকে উদ্দেশ করে বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। এরপর চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেন টাঙ্গাইল যেতে না হয়। কোনো সন্ত্রাসী লোককে আমরা ভোট দিতে রাজি নই।
নিজেকে লাল মাটির সন্তান দাবি করে সভায় মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন,লাল মাটির কারণেই আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। লাল মাটির সঙ্গে আপনারা বেইমানি করবেন না। আপনারা আমাকে সমর্থন দেবেন, দোয়া করবেন।
পরে এনায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বর্তমান সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ একজন সন্ত্রাসী ও বহিরাগত। তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর যদি দল থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তবে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন।তিনি আরো বলেন খান আহম্মেদ শুভ কোন দিন মির্জাপুরের রাজনীতি করে নাই,আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মী সাথে তাহার সুসম্পর্ক নেই।কিছু হাইব্রিট বহিরাগতদের নিয়ে তাহার চলাফেরা।এতে ত্যাগি নেতা কর্মিরা মনঃক্ষুণ্ণ। আমি চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আমাদের অভিভাবক শেখ হাসিনা যোগ্য ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করবেন।
সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক এই আসন থেকে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা। আমার দাদা ও বাবার বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে। আমার বাবার কারণে দেড় বছর আগে উপনির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হয়ে সর্বোচ্চ বিনয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
খান আহমেদ শুভ আরও বলেন, এমন কোনো কাজ করিনি, যে কারণে কেউ আমাকে সন্ত্রাসী বলতে পারে। দলের কাছে পুনরায় মনোনয়ন চেয়েছি। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। না দিলে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার হয়ে দলের পক্ষে কাজ করব।স্বতন্ত্র নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন স্বতন্ত্র থেকে কে নির্বাচন করবে তা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে কোনদল সৃষ্টি হচ্ছে।










