
দেড় কোটির অধিক টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে ফার্মেসীর মালিক উধাও।
আল-আমিন হোসেনঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় সুজাউদ্দীন নামের এক ফার্মেসীর মালিক রাতের আঁধারে দেড় কোটিরও অধিক টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা থেকে মাইক্রো ভাড়া করে স্বপরিবারে পালিয়েছে।
জানা গেছে বিভিন্ন এনজিও, ঔষধ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেড় কোটিরও অধিক টাকা নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উধাও হলে পরদিন বুধবারে ফার্মেসী বন্ধ থাকলে কেউ টের না পেলেও বৃহস্পতিবার পাওনাদাররা তার মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়াই একে একে পাওনাদাররা দোকানের সামনে এসে ভীড় জমায়। সেই সাথে পাওনাদারগন সুজাউদ্দিনের ফার্মেসীতে একাধিক তালা মারেন । বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আলমডাঙ্গাতে টপ অফ দ্যা টাউনে পরিনিত হয়েছে।প্রতারক সুজাউদ্দিন স্বপরিবারে পালিয়ে যাওয়াতে সবথেকে বেশী বিপদে পড়েছেন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, যশোর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড খোড়কি গ্রামের মৃত আছির আলীর ছেলে সুজাউদ্দিন আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের আব্দুল মান্নান ওরফে জাফরান খলিফার মেয়ে মামতো বোন মিনা খাতুনকে বিয়ে করেন। গত ১৭ সালের দিকে অর্থ কেলেঙ্কারির করে যশোরে টিকতে না পেরে তিনি বউ-বাচ্চা নিয়ে আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন।
আলমডাঙ্গায় এসে শহরের হাইরোডে মেডিসিন কর্নারে কর্মচারী হিসেবে চাকরি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। মেডিসিন কর্নারে দুই বছর চাকরী করেন সুজাউদ্দিন। এরপর তার শ্বশুর চাকরী থেকে অবসরে গেলে পেনশনের টাকা নিয়ে হাইরোডে রিপন ফার্মেসী নামে একটি ঔষধের দোকান চালু করে।
পার্শ্ববর্তী ফার্মেসির মালিকেরা জানান,সুজাউদ্দিনের ব্যবসা ভালই চলছিল। তিনি অন্যান্য ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাস্টমার ধরার জন্য কমমূল্যে ঔষুধ বিক্রি করতে থাকেন।আস্তে আস্তে নিজের পুঁজি শেষ হয়ে গেলে বিভিন্ন এনজিও ও ডেইলি সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋন জড়ানো শুরু করে।এরপর বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির এম.পি.ও দের আন্ডারেটে প্রোডাক্ট বিক্রি করে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ বাকিতে নিতেন। ফার্মেসি শুরুর এক বছর খুব ভালোভাবে ফার্মেসি চালায়। পরে চড়া সুদে বিভিন্ন এনজিও, ডেইলি সমিতি, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট, প্রতিবেশী ব্যবসায়ী ও পরিচিত জনদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছেন।
বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি এম আরদের নিকট হতে মোট ২৫ লক্ষের অধিক টাকা মূল্যের ঔষধ নিয়ে পালিয়েছে। তারমধ্যে ইবনে সিনার কাছ থেকে ৬ লক্ষ৯০ হাজার , জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের ৫ লক্ষ ৯০ হাজার, একমি ১ লক্ষ, নাভানা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, বিকন ৯০ হাজার, বায়ো ফার্মার ১ লাখ ১৪ হাজার, নিপ্রো জেএমআইয়ের ৫০ হাজার, পপুলার ১ লাখ ১০ হাজার,এসকেএফ ১৫ হাজার জিসকা ১৬হাজার,প্যাসেফিক ১১ হাজার,এভারেস্ট ১৬ হাজার,ড্রাগের ১০ হাজার, এপেক্স ফার্মার ৪ হাজার টাকা।
ঋণ হিসাবে সুজাউদ্দিন ব্রাক এনজিওথেকে নেন ৭ লাখ টাকা, একতা ডেইলি সমিতি থেকে বাড়ির দলিল রেখে ২৭ লাখ টাকা ও ফোর স্টার সমিতি থেকে ৭ লাখ টাকা নেন।
ঋণ ছাড়াও সুজাউদ্দিন প্রতিবেশী ব্যবসায়ী কসমেটিক এন্ড কনফেশনারীর মালিক জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ লাখ, ভাই ভাই মোবাইলের মালিক জুয়েল রানার কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার, আমেনা কনফেশনারীর মালিক ডাবলুর কাছ থেকে ৫০ হাজার ধার নেন।
এছাড়াও গোপনে তিনি চড়াসুদে অনেক ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন যা লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পাওনাদার ব্যবসায়ীরা মুখ খুলছেন না বলেও জানা গেছে।










