আলমডাঙ্গায় ১০,৫৮০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসাবে বিনামূল্যে ভুট্টা,সরিষা,গমের বীজসহ সার বিতরণ।
স্টাফ রিপোর্টারঃ চলতি অর্থবছরে রবি মৌসুমের গম, ভুট্টা, সরিষাসহ ১০টি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে ১৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ।
প্রণোদনার আওতায় একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় গমবীজ ২০ কেজি, ভুট্টার বীজ ২ কেজি, সরিষা বা সূর্মুখীর বীজ ১ কেজি, চিনাবাদামের বীজ ১০ কেজি, সয়াবিনের বীজ ৮ কেজি, শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ ১ কেজি, মুগ বা মসুরের বীজ ১ কেজি ও খেসারির বীজ পাবেন ৮ কেজি করে। একই সাথে তাদের বিনামূল্যে সার দেওয়া হবে।
তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলাতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষক কৃষাণীদের মাঝে ১৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ মোট ১০৫৮০ জনকে বিনামূল্যে সরিষা, ভুট্টা,গমের বীজ ও সারসহ ৩টি ফসলের উপর প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
তারই মধ্যে ৮,৬৪০ কৃষককে ১ কেজি করে সরিষার বীজ,সাথে ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার ও ১০৪০ জনকে ২কেজি করে ভুট্টার বীজ সাথে ডিএপি ২০ কেজি ও ১০ এমওপি সার এবং ৯০০ জন কৃষককে ২০ কেজি করে গমের বীজ সাথে ১০কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাশ সার প্রান্তিক পর্যায় কৃষকদের দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে একজন কৃষক ১০টি ফসলের যে কোন একটি চাষের জন্য এ প্রণোদনা পাবেন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ভুট্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার বাংলাদেশের ভেতর খ্যাতি রয়েছে সেহেতু চলমান ভুট্টার মৌসুমে বীজ ক্রয়ের সময় অবশ্যই প্রত্যেক কৃষক যেনো স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে মেমো নিবেন। যাতে করে বীজ ভেজাল দিলে পরবর্তীতে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করতে কোন সমস্যা না হয় । মেমো ছাড়া কেউ বীজ ক্রয় করবেন না।ভেজাল সার, বীজ,সহ অতিরিক্ত মূল্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আজিজুল হকের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা তার মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা অন্যতম। বর্তমান সরকার প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের চাষে উদ্ভুক্ত করার জন্য প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে এবং এর সুষ্ঠু বন্টন যাতে হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে । কেও যেনো এর অসম বন্টন না করে, চেয়ারম্যান- মেম্বার যখন বন্টন করবেন তখন ওয়ার্ড পর্যায়ে তদারকি করবেন যাতে করে একজন কৃষক ঐ সরিষার বীজ নিয়ে বেটে না খায় , গমের বীজ নিয়ে বিক্রয় না করে। বীজগুলো অবশ্যই জমিতে বপন করতে হবে যাতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রের দ্বিগুন হয়। সর্বোপরি বীজ বপনের সময় চাষীদের জমিতে যেয়ে মাঠকর্মীদের তদারকি করে দেখা উচিত। যাতে করে সরকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধাগ্রস্ত না হয়। আমি মনে করি এই উদ্যোগগুলো নিলে কৃষি ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাবে , কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।