
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবি পণ্য ডিলার ও জনপ্রতিনিধিরা সরকারি টিসিবি পণ্য নিয়ে নয় ছয় করে অনলাইনধারী উপকার ভোগীদের বঞ্চিত করায় কার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেছে উপকার ভোগীরা।এসময় সাংবাদিকদের দেখে পরিষদে তালা লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেলো পণ্য ডিলার ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
৬ নভেম্বর (সোমবার) উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সরকারি টিসিবি পণ্য বিতরণ করা হয়। এসময় অনলাইনধারী উপকার ভোগীরা সকাল থেকে পরিষদ মাঠে এসে টিসিবি পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে অনলাইনকার্ড ধারীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও সামান্য কিছু মালামাল বিতরণ করে মাঝপথে বিতরণ বন্ধ করে দিয়ে মালামাল শেষ হয়ে গেছে বলে অন্তত ৬-৭শ,অনলাইন কার্ডধারী উপকার ভোগীকে টিসিবি পণ্য না দিয়ে তাড়িয়ে দিলো টিসিবি ডিলার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কার্ড হাতে নিয়ে পরিষদের মাঠে বিক্ষোভ করেছে সুবিধা বঞ্চিত ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে সাধনপুর ইউপি সচিব নোবেল ভট্টাচার্য বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,স্থানীয় মেম্বারদের কাছে লিস্ট দেয়া হয়েছে, তারা কার্ড বিতরণ করেছে, সেই অনুযায়ী টিসিবি পণ্য সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২ টার মধ্যে ১৫৩৬ জনকে বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু মালামাল শেষ হয়ে যাওয়াতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু কার্ডধারী উপকার ভোগী মানুষ পণ্য পায়নি। বিষয়টি কালকে জরুরি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি। টিসিবি পণ্য ডিলার কে? জানতে চাইলে বাণীগ্রামের (নিবানী দে) নামক একটি প্রতিষ্ঠান বলে জানান সচিব।
এবিষয়ে নিবানী দে নামক টিসিবি পণ্য ডিলার প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করলে, ফোন রিসিভ করে ডিলার পরিচয় দিয়ে বলেন, মেম্বার,মহিলা মেম্বার ও গ্রাম পুলিশসহ সকলের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় বলতে কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত বিতরণ করেছেন? এবং বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কিনা? জানতে চাইলে আমতা আমতা করে ওই লোক বলেন, নিবানী দে অসুস্থ, আমি তার প্রতিনিধি বলছি, কয়টা পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে সেটা আমি একটু পরে জানাচ্ছি।কারো কাছ থেকে কি জিজ্ঞেস করে জানাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়টা সঠিক আমার জানা নেই। সেটা ইউপি সচিব বলতে পারবে।
এব্যাপারে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কামাল বলেন,টিসিবি পণ্য বিতরণ করার নিয়ম হচ্ছে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে যারা আসছে তাদের মধ্যে পণ্য বিতরণ করা হয়েছে, কার্ড ছাড়া কাউকে এই পণ্য বিতরণ করার নিয়ম আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুইটার মধ্যে কার্ডধারীরা না আসলে অবশ্যই বিতরণ করা যাবে।
কে পাইছে না পাইছে সেটাতো জানিনা তবে সব মালামাল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, জনপ্রতিনিধিরা পালাবে কেন, হয়তো নিশ্চিয় তারা কোন অনিয়ম করেছে, সুবিধা বঞ্চিতদের কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।