
বিএনপির ডাকা অবৈধ টানা অবরোধ চলাকালে ধামরাই উপজেলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার প্রস্তুতিকালে কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশের টহল দলের হাতে ধরা পড়েছে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মোল্লার ঘনিষ্ট সমর্থকরা।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে নাশকতার কাজে বাধা পেয়ে মুহূর্তেই পল্টি মেরে নির্দোষ সাজার চেষ্টা করেছেন অভিযুক্তরা। নিজেদের আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি ধামা চাপা দিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, লাঞ্ছিত করা সহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮ টার দিকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানাধীন বাথুলি স্কেল সংলগ্ন (লোড এক্সেল কন্ট্রোল স্টেশন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ধামরাই থানা পুলিশের একটি চৌকস টহল দলের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশের ভূমিকায় দৌড়ে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।
ঘটনার পরদিন (৫ নভেম্বর) রাতে ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবসহ কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠনের সাথে আলোচনা করে ধামরাই থানায় চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিক ইমরান খান বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় দৈনিক কালবেলায় কর্মরত।
অভিযুক্তরা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার আদর্শ গ্রাম এলাকার লাল মিয়ার ছেলে আব্দুল মান্নান(৪০) এবং ধামরাই উপজেলার হাতকোড়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন(৩৭)। তারা বিএনপি'র সক্রিয় সদস্য হলেও ভোল্ট পাল্টে গাংগুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মোল্লার সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ পত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংগুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লার সমর্থকরা অধিকাংশই অতীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আব্দুল কাদের মোল্লার ছত্রছায়ায় পুরো ইউনিয়নে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নেয় অভিযুক্তরা। জনসমর্থন না থাকলেও কর্মী বাড়াতে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের নিজের সমর্থক বলে চালিয়ে দেয় গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মোল্লা। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা সহ বিস্তর অভিযোগ। প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও তার কাছে জিম্মি।
জানা গেছে, ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মোল্লার সমর্থক আব্দুল মান্নান ও সুমন হোসেন সহ বিএনপি'র প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে হাজির হয় স্থানীয় সাংবাদিকরা। পরে খবর পেয়ে ঢাকা জেলা পুলিশের একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এতে অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর মারমুখী আচরণ করে বিএনপির অবরোধের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী আওয়ামী সমর্থক লেবাসধারী অপরাধীরা। এসময় পুলিশের ভূমিকায় দৌড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
এদিকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় বিএনপি'র সমর্থনে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের লেবাস ধরে অপরাধ করার কোন সুযোগ নেই। জনগণের জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক তদন্ত চলছে, প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।