
সিরাজগঞ্জ-৬: আওয়ামী লীগে প্রার্থিতার লড়াইয়ে হাফ ডজন নেতা
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগে সহোদর ভাইবোনসহ হাফডজন নেতা প্রার্থিতার লড়াইয়ে নেমেছেন। আর বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দুই নেতা। দুটি দলেরই মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রের মনোযোগ কাড়ার জন্য মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন।
১৩টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কাচারিবাড়ী, দুগ্ধ শিল্প, তাঁত শিল্প ও দেশের অন্যতম পাইকারি শাড়ি-লুঙ্গির হাটসহ নানা শিল্পে ভরপুর শাহজাদপুর উপজেলা। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫১। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি নির্বাচিত হন। আর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ডা. এমএ মতিন এমপি হন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চয়ন ইসলাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। অদ্যাবধি এ আসন আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।
এ আসনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) উপজেলা শাখার সভাপতি মোক্তার হোসেন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। এ আসনের বর্তমান এমপি মেরিনা জাহান কবিতা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম সহোদর ভাই বোন। দলীয় মনোনয়ন পেতে আসনটিতে ভাই বোনের মধ্যেই লড়াই চলছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন-জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিমুল হক মিরু, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল হামিদ লাভলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন।
আর নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দলটি থেকে মনোনয়ন চাইবেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিত এবং জেলা বিএনপির আরেক উপদেষ্টা জাতীয়তাবাদী মুক্তির প্রজন্ম দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম ছালাম এমবিএ। তবে অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় এ আসনে বিএনপির হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন শফিকুল ইসলাম ছালাম এমবিএ।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ডা. এমএ মুহিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। নির্বাচনের পর তিনি বিদেশ চলে যান, তারপর থেকে তিনি আর এলাকায় ফেরেননি। গত ২০ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ফেরেননি।
তবে বিএনপির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম ছালাম এমবিএ বলেন, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি নির্বাচনি মাঠে ছিলাম। প্রয়াত এমপি হাসিবুর রহমান স্বপনের নির্দেশে আমার বসত বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। স্ত্রী-সন্তান এমনকি বৃদ্ধ মাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। কিন্তু আমাকে মাঠ ছাড়া করতে পারেনি। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার সাজার দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তার গাড়িতে অবস্থান করি। পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে মারাত্মক আহত হই। তার পরও বিএনপির সব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে চলেছি। ছাত্র রাজনীতি থেকে অদ্যাবধি শাহজাদপুরের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। শাহজাদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মী সবাই আমার পাশে আছে। তাদের অনুপ্রেরণায় আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চাচ্ছি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আর সেই নির্বাচনে যদি আমাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তা হলে শাহজাদপুর আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত বলে আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি।
অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। উপজেলাজুড়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচারের পাশাপাশি নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছি। আমি এবারও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমি এর আগেও এমপি ছিলাম, আমার সময়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদন হয়েছে। এ কারণে এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে। এবার যদি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তা হলে এ আসনে নৌকা প্রতীকের জয় নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, এ আসনের প্রয়াত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দেয়। মাত্র দেড় বছরেই এলাকায় অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মনোনয়নের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ আমার শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা ও জনসম্পৃক্তার কারণে আওয়ামী লীগ আমাকে এবারও মনোনয়ন দেবে বলে বিশ্বাস করি। আর এবারও যদি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তা হলে এ আসনে আমি বিপুল ভোটেই বিজয়ী হব।
ভাই বোন একই আসনে একই রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ায় দল এবং ভোটাররা বিব্রত হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগেও আমরা ভাই বোন মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছিলাম সে সময় রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি।










